হেমলক দর্শনে সক্রেটিস স্মরণ

চতুর্দিকে পরতে পরতে বৃত্তাকারে ঝুঁকা ডালপালা নুয়ে এসেছে ভূমি পর্যন্ত৷ এমন গাছ আছে নানান রকমের, নামের আগে ব্যবহার করা হয় ‘ক্রন্দসী’ বিশেষণ – “weeping”। অতি পরিচিত মেপল গাছেরও ভ্যারাইটি আছে, এমন ঝুঁকে থাকা ডালপাল, বলে Weeping Maple। Continue reading “হেমলক দর্শনে সক্রেটিস স্মরণ”

শিলংয়ে রবীন্দ্রনাথ ও শিলং যাত্রার একাল সেকাল

জাফলং হতে নজরে পড়ে খাড়া দুই পাহাড় মাঝের ঝুলন্ত ব্রীজ। এটিই Gateway To Shillong এদেশ হতে শিলং যাবার । বাংলাদেশের প্রান্তের চেকপোস্ট তামাবিল, ভারতীয় দিকে ডাউকি, মেঘালয়ের West Jaintia Hills district এ। শহরের নামেই নাম এই ব্রীজের, ‘ডাউকি ব্রিজ’। নীচ দিয়ে চিড়চিড় বয়ে চলেছে পাহাড়ি নদী, নাম উমংট ( Umngot) । Continue reading “শিলংয়ে রবীন্দ্রনাথ ও শিলং যাত্রার একাল সেকাল”

বানিয়াচং: মন্দির মসজিদের ঐতিহাসিক যোগসূত্র

একসময় এশিয়ার বৃহত্তম গ্রাম বলে কথিত ছিলো বানিয়াচঙ্গ গ্রাম। মাকড়সার জালের মতো বিস্তৃত খালের এই গ্রামে এখন ২৬ কিলোমিটার পাকা, এক পঞ্চমাংশ কাচা রাস্তা, হাজারো ডোবা/পুকুর/পাগাড়। এর নামকরণ নিয়ে আছে একাধিক জনশ্রুতি।

Continue reading “বানিয়াচং: মন্দির মসজিদের ঐতিহাসিক যোগসূত্র”

বিলুপ্ত ঘেটুগান ও জলসুখা গ্রাম

বৎসর তিনেক আগেও জলসুখা গ্রামটি ছিলো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বর্ষায় নৌকা, হেমন্তে পায়ে হাঁটা।। হবিগঞ্জ জিলার আজমিরীগঞ্জ সন্নিকট কুশিয়ারার তীরে এই গ্রাম। Continue reading “বিলুপ্ত ঘেটুগান ও জলসুখা গ্রাম”

লাউয়াছড়া উদ্যান ও প্রাসঙ্গিক কথা

ফরাসী সাহিত্যিক জুল ভার্নের “Around The World in 80 day” অবলম্বনে হলিউডের ছবি হয়েছে একাধিকবার। এর মাঝে সেরা ছবির অস্কার জিতে ১৯৫৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি । এই ছবির অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি দৃশ্য ধারণ করতে নির্বাচন করা হয়েছিলো লাউয়াছড়ার এই ট্রেইন লাইনকে। ভোরের আলোয় ট্রেনের পাশ দিয়ে হেলেদুলে চলতে থাকা বুনো হাতি। চা-বাগান, ঝুড়ি মাথায় চা-বালিকা, কাঁধে বাঁশ বয়ে চলা কৃষক। রেলের সমান্তরাল আঁকাবাঁকা পাহাড়ি ছড়া, ছড়ার জলে জলকেলিরত হাতির পাল।

Continue reading “লাউয়াছড়া উদ্যান ও প্রাসঙ্গিক কথা”

আজমপুর – আগরতলা, আযম খান ও মোনেম খান

ট্রেনে করে ঢাকা-চট্রগ্রাম যেতে আখাউড়ার আগের স্টেশন আজমপুর। ছোট্ট হলেও কিছু বৈশিষ্ট্য নজর কাড়ে কৌতুহলী ট্রেন যাত্রীদের। চলতি ট্রেন হতেই দেখা যায় দু একটা সীমান্ত পিলার। নুতনদের পুরোনোরা আঙ্গুল তুলে দেখায়, ঐ যে, ইন্ডিয়া। ইন্ডিয়া মানে ত্রিপুরার পাহাড়। Continue reading “আজমপুর – আগরতলা, আযম খান ও মোনেম খান”

কিংবদন্তীর জুডাস বৃক্ষ: জেরুজালেম ও নিউইয়র্কে

নিউইয়র্ক সেন্ট্রাল পার্কে ম্যাজেন্টা রঙের ফুলটিকে ভেবেছিলাম চেরি। কিন্তু পরিচিতি বোর্ডে লিখা Eastern Redbud (Cercis canadensis)।

শাখাতে ও কান্ডে সরাসরি ফুল আসে চেরি। এছাড়াও এক্কেবারে শেকড়ের হতে মাটি ফুঁড়েও ফুল আসে অশোক। এই গুণের কারণে প্রস্ফুটন ঋতুতে চেরি বা অশোক সৃষ্টি করে অসাধারণ এক দৃশ্যের।

আমেরিকায় এটি (Eastern Redbud ) জন্মে শুধুই উত্তর পূর্বাঞ্চলে। এর রঙও লাল। তাই এর নাম Eastern Redbud। বর্তমান ইজরাইল রাষ্ট্রের বাইবেলীয় যুগের যুডিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অংশেও জন্মাতো এই প্রজাতির বৃক্ষ। Continue reading “কিংবদন্তীর জুডাস বৃক্ষ: জেরুজালেম ও নিউইয়র্কে”

স্বর্গীয় পারিজাত ফুলঃ যার কাছে যেমন

বিরল এই ফুল গাছের প্রথম পরিচয় কক্সবাজারের  মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরে। ওখানে লিখা ‘পবিত্র স্বর্গীয় পুষ্প পারিজাত’। স্বর্গ স্পর্শ লোভে পূণ্যার্থীরা ডালে ডালে বেঁধে রেখেছেন কাপড়ের টুকরো। চট্টগ্রামের পটিয়ার কালাচাঁদ মন্দিরেও আছে দুটো। সাইনবোর্ডে লিখা, “পারিজাত স্বর্গের ফুল, ডাল ভাঙ্গা, ফুল পাতা ছেড়া দেবতাদের অপমানের সামিল। এই মহাপাপ হতে নিজেকে মুক্ত রাখুন।” Continue reading “স্বর্গীয় পারিজাত ফুলঃ যার কাছে যেমন”

নেতাজী স্মারকের সন্ধানে

রোমাঞ্চকর চলচ্চিত্রের চাইতেও রোমাঞ্চকর ছিলো গোয়েন্দাদের চোখে এড়িয়ে সুভাষ বসুর আকষ্মিক অন্তর্ধান। দিনটি ছিলো ১৯৪১ সালের ১৮ই জানুয়ারি। এলগিন রোডের বাড়ি থেকে অলক্ষ্যে নিষ্ক্রান্ত হলে ড্রাইভ করেন ভাতুষ্পুত্র ডা. শিশির বসু। নেতাজীর ছদ্মবেশ ছিলো পাঠান যুবকের। লাহোর, পেশোয়ার, খাইবার পাসের গিরিখাদ অতিক্রম করে কাবুলের দুর্গম বিপৎসংকুল পথে দুঃসাহসিক অভিযানসম সেই যাত্রা।

Continue reading “নেতাজী স্মারকের সন্ধানে”

নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি ও কোলকাতার ঈষ্ট বেঙ্গল ক্লাব

বৃহত্তর ময়মনসিংহের অন্যতম জমিদার বাড়ি নাগরপুর জমিদার বাড়ি। ৫৪ একর জায়গায় অনেকগুলো পৃথক পৃথক ভবন  নিয়ে এই বাড়ি। একটি ভবনে নির্মান সাল লিখা ১৯৩১ জুন। কিন্তু এই জমিদারির শুরু ঊনবিংশ শতাব্দিতে। সুতরাং ভবনগুলোর নির্মান এক সাথে হয়নি। Continue reading “নাগরপুর চৌধুরী বাড়ি ও কোলকাতার ঈষ্ট বেঙ্গল ক্লাব”